home image

স্ট্রিট ফটেগ্রাফি : পথই যখন স্টুডিও

আগা সাদেক রোড, ঢাকা, ২০০৯



আড় চোখে তাকাও। এটাই চোখকে পরিণত করার উপায়, তাকাও আবারো। এবার খুটিয়ে দেখার মতো করে। এমনভাবে দেখো যেন এর ওপরই তোমার জীবন নির্ভর করছে। কারণ এখানে তুমি দীর্ঘক্ষণ থাকছো না।

- ওয়াকার ইভানস (১৯০৩-১৯৭৫), আমেরিকান ফটোগ্রাফার

হ্যা, স্ট্রিট ফটোর মূল বিষয়টিই আগ্রহ নিয়ে দেখার এবং অন্যকে দেখানোর। এটা এমন নয় যে, কোনো এলাকায় গেলাম আর পটাপট শাটার টিপে চলে এলাম। ফটোগ্রাফির অনেক শাখার তুলনায় স্ট্রিট ফটো বরং অনেক বেশি কঠিন। চারপাশের জগৎ চলমান, রি-শুট করার অপশন নেই, স্টেজড ফটো তোলার সুযোগ নেই। অথচ তুলে আনতে হবে যেখানে আপনি গিয়েছেন সে স্থানের প্রাণ।

ওপরে যে ফটোগ্রাফারের কোটেশন দেয়া আছে, তিনি ছিলেন ফটোগ্রাফি অন্ত্যপ্রাণ। তার কাজের ক্ষেত্র ছিল স্ট্রিট ফটোগ্রাফি। আরো একজন স্ট্রিট ফটোগ্রাফারের কথা এখানে বলা সম্ভব। নাম গ্যারি উইনোগ্র্যান্ড। তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন স্ট্রিট ফটোগ্রাফিকে জীবনের অংশ করে নেয়ার কারণে। প্রতিদিন সকালে তিনি তিন রোল ট্রাই-এক্স ফিল্ম হাতে বের হতেন নিউ ইয়র্কের রাস্তায়। ওই তিন রোল ফিল্ম তিনি শুট করতেন। এরপর শুরু হতো তার দিনের অন্য কাজ।

হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতিদিন তিন রোল মানে দিনে গড়ে ১০০ ফটো। বছরে ৩৬,৫০০টি ফটো। ৩০ বছরে বলা যায় প্রায় এক মিলিয়ন ফটো। তিনি মারা যান ১৯৮৪ সালে। এর পর দেখা যায় তার ২,৫০০ রোল ফিল্ম ফটো তোলা রয়েছে কিন্তু তা ডেভেলপ করা হয়নি। ৬,৫০০ রোল ফিল্ম ডেভেলপ করা হয়েছে কিন্তু প্রুফ দেখা হয়নি। ৩,০০০ রোল ফিল্ম প্রুফ দেখা হয়েছে কিন্তু বাছাই করা হয়নি।

উইনোগ্র্যান্ডের কথা এখানে উল্লেখ করার মানে এ নয় যে, প্রতিদিন ১০০ ফটো তুললেই ভালো স্ট্রিট ফটোগ্রাফার হওয়া যাবে। এটা উল্লেখ করা হলো ফটোগ্রাফির প্রতি তার আগ্রহ বোঝানোর জন্য। আরো একজন ফটোগ্রাফারের কথা এখানে না বললেই নয়, তিনি ফটো জার্নালিজমের প্রবাদ মানব হেনরি কার্টিয়ের ব্রেসো। তিনি ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি করলেও আজীবন ছিলেন স্ট্রিট ফটোগ্রাফার। যেখানেই গেছেন, তার সঙ্গে থাকতো ছোট্ট লাইকা রেঞ্জফাইন্ডার ক্যামেরা।

 
 
Home
Portfolio
Writeups
Availability
About
Contact
Download
Wallpapers